খারাপ অভ্যাস পরিবর্তনের উপায় নিয়ে কিছু কথাঃ-
” মানুষ অভ্যাসের দাস ” এই প্রবাদটি প্রতিটি মানুষের কাছেই বেশ কার্যকর এবং উপযুক্ত প্রবাদ। আমরা মানুষেরা চাইলেও যেমন খারাপ অভ্যাসগুলিকে পরিবর্তিত করে ভালো অভ্যাসে পরিণত করতে পারি না তেমনি ভালো অভ্যাসটিকেও হুটহাট খারাপ অভ্যাসে পরিণত করা যায় না। তবে ছোট ছোট খারাপ অভ্যাসগুলির কিন্তু পরিবর্তন করা যায় এবং এর মাধ্যমেই বড় আকারের খারাপ অভ্যাসগুলিকেও জীবন থেকে দূর করা যায়।
অনেকক্ষেত্রে আমরা ছোট ছোট কাজগুলি সারতে মন থেকে বেশ উৎসাহ পাই। ঠিক তেমনই আমরা যদি খারাপ অভ্যাসগুলিকে ভালো অভ্যাসের তালিকায় যোগ চাই তাহলে অবশ্যই সবার আগে ছোট ছোট বদঅভ্যাসগুলির দিকে নজর দিতে হবে। মনে রাখতে হবে এই পরিবর্তনের জোয়ারে ভাসার আগে অনাগত দিনকে কাজে লাগানোর কথা ভুলে গিয়ে বর্তমান সময়কেই গুরুত্ব দিতে হবে। মাঝেমাঝে দেখা যায় কালকের দিনটিতে করার জন্য রেখে দেওয়া কাজটি পরশুও আর করা হয়ে উঠে না। অলসতা মানুষকে সহজেই গ্রাস করে ফেলে। এই গ্রাস করে ফেলার ক্ষমতাটির নিচেই চাপা পড়ে যায় আগামী দিন করার জন্য ফেলে রাখা কাজটির প্রতি তীব্র আগ্রহ। তাই অভ্যাস পরিবর্তনের চিন্তা যদি মাথায় থাকে তবে সবার আগে নিশ্চিত হতে হবে নিজেকে শুধরানোর জন্য আগামী দিন বলে কোনো দিনই নেই৷ যা করার আজকেই করতে হবে। নিজেকে নতুনরূপে সাজানোর জন্য আজকের দিনটিই সেরা দিন। অবশ্য একদিনে কেউ পরিপূর্ণ পরিবর্তিত হতে পারে না। পাশাপাশি একসাথে কেউ সকল খারাপ অভ্যাস বর্জন করার মতো কঠিন কাজটিও করতে পারে না। তার অবশ্য একটা কারণ আছে। ওই যে বললাম মানুষের দাসীবাঁদীর কথা! মানুষ অভ্যাসের দাস বলেই নিজেকে ঢেলে সাজানোর জন্য একদিন কখনোই যথেষ্ট নয়।
আপনি যদি চান একদিনেই মিথ্যা বলা ছেড়ে দিয়ে নিজেকে পুরোপুরি মহাসত্যবাদী বানিয়ে ফেলবেন, তাহলে মস্তবড় ভুল করবেন। অনেকক্ষেত্রে হিতে বিপরীতও হতে পারে। দেখা যাবে একদিনে নিজেকে পুরোপুরি সত্যবাদী বানাতে গিয়ে আপনি ক্লান্ত হয়ে পড়বেন। ভাববেন এর চেয়ে কঠিন কাজ বোধহয় আর পৃথিবীতে নেই। অতঃপর ধীরে ধীরে আগ্রহ হারিয়ে নিস্তেজ হয়ে পড়বেন। তবে যদি আপনি সঠিক নীতিমালা গ্রহণ করেন, নিয়ম অনুযায়ী সামনে আগাতে থাকেন তাহলে অবশ্যই নিজেকে ঢেলে সাজানোর মতো কঠিন কাজটা অতিসহজেই সারতে পারবেন।
আপনি চাইলে প্রথমদিকে প্রতিসপ্তাহের একটি নির্দিষ্ট দিনের নির্দিষ্ট সময়ে আপনার সেই খারাপ অভ্যাসটি থেকে নিজেকে বিরত রাখতে পারেন। এরপর নিয়ম মেনে খারাপ অভ্যাসটি এড়িয়ে চলার পাশাপাশি উক্ত স্থানে একটি ভালো অভ্যাসকে বসাতে পারেন। এক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে খারাপ অভ্যাসটির জায়গায় আপনি যদি ভালো কোনো অভ্যাস বসাতে না পারেন তাহলে পূনরায় সেই খারাপ অভ্যাসে প্রত্যাবর্তনের আশংকা থাকে। তাই এব্যাপারে সতর্ক থাকা উচিত।
আমরা মনে করি আমরা যতই ভালো মানুষের গুণাবলি নিয়ে আলোচনা করি না কেন নিজেকে সেই গুণাবলির সাথে খাপ খাওয়াতে পারাটা বোধহয় খুব কঠিন কাজ। অথচ আমরা একথা ভাবি না যে প্রতিটি কঠিন সমস্যার জন্য ডজনখানেক সমাধানের ব্যবস্থা রয়েছে। অতএব শুরুতেই নিজেকে আত্মবিশ্বাসী বানিয়ে নেওয়া উচিত। অলসতাকে ডিঙিয়ে লক্ষ্য অর্জনের জন্য মনোবল বাড়ানো উচিত। প্রথমে ছোট ছোট বদঅভ্যাস এবং ধীরে ধীরে বড় বড় বদঅভ্যাসগুলিও ছেড়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করা উচিত।
অনেকসময় দেখা যায় অনেকে ভালো অভ্যাসে অভ্যস্ত হয়ে গেলেও কয়েকদিন পরে আবারও সেই খারাপ অভ্যাসে ফিরে যায়। এর মূল কারণ হলো চর্চার অভাব। ছুরি, দা, বটি এসব প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র যেমন ব্যবহার করলে ধারালো থাকে ঠিক তেমনই ভালো অভ্যাসের চর্চা থাকলে জীবনের সাথে তা পাকাপোক্তভাবে গেঁথে যায়।
খারাপ অভ্যাসগুলিকে ভালো অভ্যাসে পরিণত করতে পারাটা সত্যিই কঠিন কিছু নয়৷ সঠিক উপায় বের করে প্রয়োজন হলে রুটিন বানিয়ে যদি এগিয়ে যাওয়া যায় তাহলে তার স্থায়িত্ব হবে দীর্ঘমেয়াদি।