পড়াশোনার প্রতি অনাগ্রহ এবং সফল ক্যারিয়ার

পড়াশুনা না করলেই কি আপনার ভবিষ্যৎ অন্ধকার?

আপনার মেধাশক্তি কম বলে কি আপনি হেরে যাবেন?

আপনার পড়তে ভালো লাগে না বলেই কি আপনার দ্বারা কিছু করা সম্ভব নয়?

অবশ্যই সম্ভব। তবে যদি আপনি চান। আমাদের দেশের চাকরি ব্যবস্থার নীতি এমন হয়েছে যে সার্টিফিকেট ছাড়া চাকরি পাওয়া একেবারেই অসম্ভব।আর পড়াশোনা ছাড়া সার্টিফিকেট পাওয়ার আশা অকল্পনীয়।  কিন্তু হাস্যকর বিষয় হলো চাকুরিজীবনে পড়াশুনা নামক জঞ্জালের ছিঁটেফোটাও কাজে লাগে না। তবে হ্যাঁ…! আপনি যদি চাকরি করতে চান কিংবা আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা যদি চাকুরিভিত্তিক হয়, তাহলে অবশ্যই আপনাকে ভালোভাবে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হবে। কারণ বর্তমানে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা ধীরে ধীরে পরিবর্তিত হয়ে যাচ্ছে। সরকারপ্রধানরা ভাবছেন যারা অত্যধিক মেধাবী কেবল তাদেরই পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া উচিত এবং যাদের মেধাশক্তি কম কিংবা পড়াশোনায় ভালো না তাদের কারিগরি শিক্ষার আওতায় নিয়ে আসা উচিত।

যেহেতু আমাদের দেশে চাকুরি নামক সোনার হরিণ পাওয়া বেশ দুষ্কর এবং জনশক্তি বেশি, সেহেতু আমাদের দেশের সরকারপ্রধানরা ভাবছেন কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষার্থীদের কাজে লাগাতে পারলে ভবিষ্যতে যেমন দেশের উন্নতি ঘটবে, তেমনি কাজের অভাব পড়বেনা। যার ফলে দিনদিন শিক্ষাব্যবস্থা খুব কঠিন হয়ে পড়ছে। যাদের পড়াশোনা করতে ইচ্ছে করে না তাদের জন্য এ পরিস্থিতি কিন্তু ভয়াবহ বিপদ ডেকে আনতে পারে। প্রশ্ন হচ্ছে এমন পরিস্থিতিতে কি করা যায়? ভবিষ্যতের অন্ধকার গোছাতে কি করা উচিত? 

তার আগে আপনার জেনে নেওয়া উচিত একটি মানুষের জীবনে চাকরিই সবকিছু নয় কিংবা চাকরির মাধ্যমেই কেবল নতুন দিনের সফল কাব্য লেখা যায় না!উপরন্তু যারা স্বাধীনভাবে কাজ করতে চান কিংবা যারা স্বাধীনতা পছন্দ করেন তাদের জন্য চাকরি করাটা সত্যিই অনেক বিরক্তিক।  আপনি চাইলে এই বিষয়টিকে গাধার খাঁটুনি বলতে পারেন। মানুষের জীবনে যেমন হাজারটা সমস্যা রয়েছে তেমনই সেই হাজারটা সমস্যার লক্ষাধিক সমাধান রয়েছে। আপনাকে কেবল কষ্ট করে বুদ্ধি খাঁটিয়ে সমাধানটা বের করতে হবে। 

প্রতিটি মানুষের জীবনেই সুপ্ত কিছু প্রতিভা রয়েছে। যেমন অনেকেই ছবি আঁকা, গান গাওয়া, লেখালেখি ইত্যাদির উপর বেশ দক্ষ। যদিও আপাতদৃষ্টিতে এগুলোকে নিতান্ত অপ্রয়োজনীয় দক্ষতা মনে করা হয়। কিন্তু আপনি যদি খুব ভালোভাবে খেয়াল করেন তবে দেখবেন এই দক্ষতাগুলো দিয়েই কিন্তু আপনি জীবিকা নির্বাহ করতে পারেন কিংবা ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠিত হতে পারেন। প্রয়োজন অধ্যাবসায়ের, প্রয়োজন ধৈর্যের, প্রয়োজন আত্মস্পৃহার, প্রয়োজন আত্মশক্তির। 

এছাড়াও আমাদের দেশে ফ্রিল্যান্সিং-আউটসোর্সিং, f-commerce ইত্যাদি কাজের মত অসংখ্য সুযোগ-সুবিধা রয়েছে যার মাধ্যমে আপনার ভবিষ্যৎ খুব সুন্দরভাবে সাজাতে পারেন।

 আপনি যদি ছবি আঁকতে পছন্দ করেন তাহলে আপনি এই ছবি আঁকাটাকেই পেশা হিসেবে গ্রহণ করতে পারেন। আপনি ছবি এঁকে দেওয়ার বিনিময়ে অর্থ উপার্জন করতে পারেন কিংবা নিজেকে গ্রাফিক্স ডিজাইনিং এর সঙ্গে যুক্ত করে কাজ করতে পারেন। অবশ্য যারা ছবি আঁকতে পারে না তারাও এই গ্রাফিক্স ডিজাইনিং শিখে খুব ভালো পরিমাণ অর্থ আয় করতে পারেন। 

এই তথ্য প্রযুক্তির যুগে আমরা যতই আধুনিক হচ্ছি ততই নতুন নতুন শব্দের সাথে পরিচিত হচ্ছি। ঠিক এমন একটি শব্দ হলো ডিজিটাল মার্কেটিং।তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে প্রচুর পরিমাণে অনলাইন বিজনেস এর দেখা মেলে।পাশাপাশি অফলাইন বিজনেস তো আছেই! 

আগে আমরা শুনেছি অফলাইনে বিজনেসের কথা। প্রচুর পরিমাণে প্রফিট নিয়ে মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে আপনাকে একটি বিজনেস দাঁড় করানোর মতো কঠিন কাজ সম্পন্ন করতে হয়। কিন্তু তথ্যপ্রযুক্তির হাতে যে ম্যাজিক রয়েছে সেটিকে কাজে লাগিয়ে তথ্যপ্রযুক্তি অনলাইন বিজনেসের মতো নতুন একটি কারিশমা দেখাতে সক্ষম হচ্ছে।  খুব কম মূলধন নিয়ে এবং খুব কম খরচে অনলাইনে বিজনেস শুরু করতে পারেন আপনিও।তবে এখানে আপনাকে প্রচুর ধৈর্যের পরীক্ষা দিতে হবে। যদি আপনার ধৈর্যশক্তি প্রবল থাকে এবং আপনি খুব ভালো ব্র্যান্ডিং করতে পারেন তাহলে আপনার জন্যই এই ডিজিটাল মার্কেটিং। মানুষের সাথে ভালোভাবে যোগাযোগ করতে পারা, মানুষের চাহিদা বুঝতে পারা, ইত্যাদি গুণ থাকলে আপনি ডিজিটাল মার্কেটিং করে প্রচুর পরিমাণ অর্থ উপার্জন করতে পারেন।বিভিন্ন সাইটে এবং বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়াতে আপনার পণ্যের ছবি তুলে প্রকাশ করতে পারেন এবং তার মাধ্যমে আপনি ক্রেতা খুঁজে পেতে পারেন।বিকাশ, রকেট ইত্যাদি একাউন্টের মাধ্যমে আপনি আপনার প্রোডাক্টের মূল্য বুঝে নিয়ে কুরিয়ারের মাধ্যমে আপনার প্রোডাক্ট ডেলিভারি দিতে পারেন।

 যাদের লেখালেখির প্রতি বিশেষ আগ্রহ রয়েছে কিংবা লেখালেখি করতে ভালো লাগে তাদের নিরাশ হবার কিছুই নেই। বর্তমানে অনলাইন জবের বিশাল একটি অংশ এই লেখালেখির সুযোগ জুড়ে রয়েছে।বিভিন্ন ভাষায় উপযুক্ত টপিকের উপর কন্টেন্ট লিখে আপনিও বেশ ভালো আয় করতে পারেন।এই ধরণের কাজ আজকাল বিভিন্ন ওয়েবসাইটে পাওয়া যায়।

পড়াশুনা না করেই আয় করার মতো এত সুযোগ থাকতে আপনাকে দমে যেতে হবে কেন? আপনাকে আত্মহত্যার মতো ঘৃণ্য পথ বেঁছে নিতে হবে কেন? অনেকেই হয়তো প্রশ্ন তুলবেন, পড়াশুনা না করলে পাড়ার মানুষ কি বলবে? বন্ধুবান্ধব কি ভাববে? এমন ভাবনা মনে আসার আগে আপনি নিজেই ভেবে নিবেন আপনার জীবনে চলার পথে এসব পাড়া-মহল্লার মানুষের কোনো ভুমিকা আছে কিনা! যদি থাকে তাহলে তা চিন্তার বিষয়। আর যদি না থাকে তাহলে দ্বিতীয়বার না ভেবে কাজে নেমে পড়ুন। 

তবে হ্যাঁ। যারা পড়াশুনায় ভালো তাদের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল। পাশাপাশি যারা এক্ষেত্রে পিছিয়ে আছে তাদেরও চিন্তার কোনো কারণ নেই। আসুন সবাই মিলে এগিয়ে যাই।বেকারমুক্ত দেশ গড়ি।     

Leave a Comment