পজেটিভ চিন্তা-ভাবনা করার মূল হাতিয়ার হলো সবসময় সবকিছু পজেটিভলি গ্রহণ করার ক্ষমতা। একজন মানুষ কিংবা একটি পরিস্থিতি কখনোই পুরোপুরিভাবে পজেটিভ হয় না। মানুষ যেমন ভুল – শুদ্ধের সমাহার… পরিস্থিতিও ঠিক তেমন।
সারাবছর পড়াশুনা করা একটা ছেলে হুট করে রেজাল্ট করে ফেলেছে। তার মানে এই নয় পরিবারের সকল সদস্য মিলে তাকে ইচ্ছেমতো ডিপ্রেশনের নদীতে চুবাবে! পাড়া-প্রতিবেশীর মানসিক অত্যাচারের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের দেওয়া মানসিক অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে পা পিছলে পড়ে যাওয়া ছেলেটাও সারাজীবনের জন্য পঙ্গুত্ব বরণ করে নেই অনেকসময়। অথচ তা আমরা জানলেও মানতে রাজি না। কারণ ওই একটাই! সেটা হলো পজেটিভ চিন্তা-ভাবনা করার ক্ষমতা না থাকা! আমাদের মাথায় থাকে না… পরিস্থিতি সবসময় অনুকূলে থাকে না। রাখা যায় না!
একজন ছেলে এবং একজন মেয়ে রিকশায় চড়ে শহর ঘুরে বেড়ানো মানে এই নই যে তাদের প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। ভাই-বোন, চাচা-ভাতিজিরাও কিন্তু একসাথে, একই রিকশায় চড়ে শহর চষে বেড়াতে পারে! এতে বাধা নেই। এক্ষেত্রে আমার আপনার পজেটিভ চিন্তা-ভাবনা করার ক্ষমতা থাকতে হবে। যা ঘটে নি তা রটানো বাহাদুরির কাজ নয়।

ছেঁড়া গেঞ্জি, এলোমেলো চুল, ময়লা শরীরে একটি লোক আপনার হোটেলে খাবার খেতে এসেছে…তার মানে এই নই যে খাওয়াদাওয়া শেষ হয়ে গেলে সে বিল না দিয়ে উধাও হয়ে যাবে! এমন নেগেটিভ ভাবনা মনে পোষণ করে আপনি যদি লোকটিকে পঁচা খাবার ধরিয়ে দিয়ে তাচ্ছিল্যের সুর তোলেন তাহলে আপনি এখনো মানুষ হতে পারেন নি। পৃথিবীতে যেমন কিছু মানুষের মন অসম্ভব ছোট…তেমনই পৃথিবীতে কিছু মানুষের মন অসম্ভব বড়। কিছুকিছু মানুষ নিজে ঠকে গেলেও অন্য একজনকে ঠকানোর চিন্তাভাবনা মাথায় আনারও সাহস পায় না।
বাসের পাশের সিটে বসা হিজড়া হিসেবে স্বীকৃত মানুষটি যে সবসময় আপনাকে অপদস্ত করার চিন্তায় লিপ্ত থাকে তা নয়! আমি-আপনি হিজড়া দেখলেই যেসব বাজে মন্তব্য ছুঁড়ে মারি তা তাদের হজম করতে কিন্তু প্রচুর মানসিকশক্তির প্রয়োজন পড়ে। অনেকেই তো সহ্য করতে না পেরে পৃথিবীকে বিরাট অবহেলার কারখানা ভেবে “শান্তি” নামক শব্দটাকে ভুলেই গেছে! তাদের প্রতি সমালোচনার তীর ছুঁড়তে ছুঁড়তে আমরা অন্ধত্ব বরণ করে নিই। যার ফলস্বরূপ তাদের চোখের নোনতা জল আমাদের কাছে ধরা দেয় না।
পাশের বাড়িতে থাকা বোবা লোকটাকে দেখলেই আমাদের প্রচুর হাসি পায়। হাত নাড়ানাড়ি করে কি যেনো বলে! কিছুই বুঝতে না পেরে হো হো করে হেসে উঠি আমরা। অথচ বুঝি না এমন লজ্জাজনক পরিস্থিতি এড়ানোর জন্য মনে মনে সে কতগুলি কৌশল কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে! একবারও ভাবি না একই পরিস্থিতি আমাদের জীবনে কোনোভাবে চলে আসলে আমরা কি করে তা মানিয়ে চলার চেষ্টা করবো? কিভাবে নিজেকে বুঝাবো যে এমন পরিস্থিতি মানুষের জীবন অস্বাভাবিক নয়!