আজ ১ অক্টোবর। বিশ্ব প্রবীণ দিবস। আমার মতে খুব কমসংখ্যক মানুষ এই তথ্যটি সম্পর্কে জানে। অবশ্য অনেকের না জানবারই কথা। জীবনের অলিতে-গলিতে ঘটে যাওয়া নানান ঘটনাবলির নিচে অনায়াশেই চাপা পড়ে যায় এসব ঠুনকো দিবস (আমাদের মতে)। আমাদের সমাজের কিছু বিবেকবর্জিত মানুষের ধারণা একটি মানুষ প্রবীণ বয়সে পতিত হওয়া মানেই তার পৃথিবীতে নতুন কিছু দেওয়ার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলা। সমাজের প্রতিটি স্তরে স্তরে প্রবীণ মানুষেরা আজ অবহেলিত হচ্ছে। এমনকি আদরের সন্তানটিও বৃদ্ধ পিতা মাতাকে ফেলে দিচ্ছে বৃদ্ধাশ্রম এর মত একাকিত্বের গভীর আস্থাকূঁড়ে।
আমরা সকলেই জানি বয়স বাড়ার সাথে সাথে একটি মানুষের শারীরিক এবং মানসিক ক্ষমতা ক্রমশ লোপ পায়। শরীরে বাসা বেঁধে রাখা বিভিন্ন রোগের জীবাণুর বিরুদ্ধে তাদের একাই লড়তে হয়। স্মরণশক্তি লোপ পাওয়ার পাশাপাশি কাছের মানুষগুলির অবহেলা একজন প্রবীণ মানুষকে মানসিকভাবে রীতিমতো অত্যাচারের যন্ত্রণা উপহার দেয়।বুড়ো দাদিটা কিংবা বুড়ো নানাটা যখন তার নাতি – নাতনির সাথে একটু খোশগল্পে মেতে উঠতে চায় তখন অনেকের চোখে – মুখে বিরক্তির আভা ফুটে ওঠে।
একটি শিশুর মনে সময়ের ব্যবধানে যেমন হাজার হাজার প্রশ্নের উদয় হয় এবং এসব প্রশ্নের উত্তর না পেলে তাদের যেমন মানসিকভাবে চাপ সৃষ্টি হয়, ঠিক তেমনি একজন প্রবীণ মানুষের মনেও হাজারো অভিজ্ঞতার কাহিনী জমা থাকে। যা বলতে না পারলে কিংবা কাউকে শুনাতে না পারলে সে একাকিত্বের যন্ত্রণায় পুড়তে থাকে। এই পুড়তে থাকার যন্ত্রণা যে কত কঠিন তা কেবল ভুক্তভোগীরাই জানান!প্রবীণ বয়সের মানসিক চাহিদাগুলি পূরণ করা সত্যিই জরুরি। আমার মতে এই কাজটি সকল কাজের চাহিদা পূরণের চাইতেও অত্যধিক জরুরী।
আমাদের জীবনে চলার পথে বিভিন্ন অভিজ্ঞতার প্রয়োজন পড়ে। এখন প্রশ্ন হলো… যদি ঘটনাটি জীবনে নাই বা ঘটে তবে অভিজ্ঞতা অর্জন করবো কিভাবে?
এক্ষেত্রে আমরা যদি প্রবীণ মানুষগুলির অভিজ্ঞতার ঝুলি হাঁতড়াই তাহলে অনেক সমস্যার সমাধান খুঁজে পাবো। প্রত্যক্ষভাবে না হলেও আমরা পরোক্ষভাবে পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে পূর্ণ ধারণা লাভ করতে সক্ষম হবো।
আমাদের সমাজের একটি বিরাট অংশজুড়ে রয়েছে এই প্রবীণ জনগোষ্ঠী। আমরা কিন্তু চাইলেই তাদের বোঝা মনে না করে শক্তি হিসেবে ব্যবহার করতে পারি। বর্তমানের আধুনিক যুগে অধিকাংশ শিশু কিশোররাই তথ্য প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকে পড়ছে। ক্ষেত্রবিশেষে লাভ যেমন হচ্ছে লোকসানও তেমন হচ্ছে। আমাদের মাথায় রাখতে হবে আমরা চাইলে বুদ্ধি খাটিয়ে এই লোকসানের ফাঁদে পড়া হতে আমাদের সন্তানদের রক্ষা করতে পারি। দিনের একটা সময় যেন তারা মন খুলে কথা বলতে পারে তার ব্যবস্থা করতে পারি। এতে এক ঢিলে দুই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হব। এর ফলে প্রবীণরা যেমন তাদের একাকীত্ব দূর করার হাতিয়ার খুঁজে পাবে। শিশুরাও তেমন লোকসান এড়িয়ে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে লাভের হিসাব পাকাপোক্ত করার সুযোগ পাবে।
লেখা – সুলতানা আফিয়া তাসনিম