
ওহ! আজকে বিজয় দিবস? আজই জানলাম। মনেই তো ছিল না! ফ্রেশ হয় লাল-সবুজের শাড়ি, পাঞ্জাবী পড়ে শহীদ মিনার এবং স্মৃতিসৌধে ইচ্ছামতো ফুল দিলাম। কত্ত বাহারি ফুল! হলুদ, লাল….! কিন্তু গতমাসের বন্ধুর বিয়েতে ঠিকই ছেঁড়া (স্টাইলিশ) জিন্স প্যান্ট, শার্ট পড়ে গিয়েছিলাম। চুলগুলিও কালার করে সেইমার্কা একটা কাটিং দিয়েছিলাম। শাড়ির সাথে একধরণের লুক দিয়েছিলাম সেবার। লুকটা ভারতের দিকে খুব চলে! বিয়েতে ট্রেডিশনাল ফুড হিসেবে আলুর ভর্তা ছিল। তাই ক্ষেত বলে রাগ দেখিয়ে চলে আসলাম। ফলস্বরূপ হিন্দি গানের সাথে তাল মিলিয়ে নাচতে পারলাম না।
যাইহোক…আজ বিজয় দিবসের ট্রিট হিসেবে দামী হোটেলে তেহারি চলবে! হোটেলে যাওয়ার আগে মেলায় ঘুরে আসা যাক। আরে ধুর! এই মহিলাটার কোনো কাণ্ডজ্ঞান নেই। এভাবে পথে বসে থাকে কেউ? আরেকটু হলেই তো পড়ে যেতাম। ইশ্! কাপড়ের কি অবস্থা! আজকেও থালা নিয়ে বসে যেতে হবে! আরে করছে কি! সে টাকার অভাবে খেতে পারছে না তো আমি করবো! ভাংতি নেই বলে তাড়িয়ে দিলাম। বিরক্তিকর পরিস্থিতিতে শুধু আমাকেই পড়তে হয়।
ও আচ্ছা.. এবার তো পতাকা কেনা হয়নি। বাড়ির পেছনের দিকে অবশ্য একটা ফেলে দেওয়া ছোট পতাকা ছিল। সেটাকে ধুয়ে কাজে লাগাতে পারতাম৷ কি আর করার! সামনের মেলার স্টল থেকে কিনে নেওয়া যাবে।
আরে এখানে তো সব দেশী পণ্য! দেশী পণ্য এখন চলে নাকি? এখনো ক্ষেতই রয়ে গেলো! ধ্যাত…এখানে আর থাকাই যাবে না। বড় কোনো শপিং সেন্টার থেকে আজকের শপিংটা সেরে ফেলতে হবে।
তাকে আজ আসতে বলেছিলাম। বিজয় দিবস উপলক্ষে সবাই ঘুরতে বেরিয়েছে। এত মানুষের ভেতরে আমরা একসাথে ঘুরলে হয়তো কেউই ধরতে পারবে না। এসব দেশপ্রেম টেশপ্রেম দিয়ে কি হবে? আগে মানবপ্রেম ঠিক রাখা জরুরি! কল দিলাম। বললো আসতে আরো ৩০ মিনিট লাগবে। এই সুযোগে কোথাও বসে ফেইসবুকিং করা যাক! ফেইসবুকের ভিডিওগুলি আজকাল মর্ডানটাইপের হয় বলে ভালোই লাগে।
আরে লোকটা কি বলছে এসব? মুক্তিযোদ্ধারা শহীদ হয়েছে, মা-বোনেরা সম্ভ্রম দিয়েছে… তাতে কি? মুক্তিযুদ্ধ ভাতা কম পাচ্ছে নাকি? ওরকম যুদ্ধ এখন হলে আমিও তাদের মতো যুদ্ধে যেতে পারবো! শুধু তারা যে খাদ্যের অভাবে চিড়ামুড়ি খেয়ে যুদ্ধে গিয়েছিল আর অমানবিক অত্যাচার সহ্য করেছিল…কেবল সেটাই পারবো না। কিন্তু আমি ঠিকই ঠুস ঠুস করে গুলি করতে পারবো।
হঠাৎ সামনে চোখ পড়লো। লোকটা কি বোকা! মাথা ঠিক নেই বোধহয়। চিপসের প্যাকেটটা ডাস্টবিনে ফেলতে হচ্ছে নাকি! দেশপ্রেম উতলে উঠেছে একদম। যত্তসব ঢং!
এই সময়ে আবার কে কল করলো?
ও…বুঝেছি। সামনে বন্ধুর চাকরি হবে হবে করছে। সেই সংবাদটাই হয়তো জানাচ্ছে। পাক্কা ২০ লাখ টাকা ঘুষ দিয়েছে এবার৷ চাকরি না হয়ে যাবে কই? আহা! সরকারি অফিসারদের কত্ত লাভ! টাকার উপর টাকা। ইশ্! আমি যদি এমপি কিংবা উচ্চপদস্থ কোনো সরকারি কর্মচারী হতে পারতাম!
বন্ধুর সাথে বাংলিশে চ্যাটিং করতে করতে চোখে পড়লো সামনের ছেলেগুলি মেয়েটাকে উত্ত্যক্ত করছে। আরে ধুর! আমি কেন ভাবছি? দেশটা আমার একার নাকি! এসব বাদ দিয়ে ফেইসবুকে বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়ে পোস্ট করা যাক! দেরি হয়ে যাচ্ছে। রাত হয়ে গেলে তো সব শেষ! অতঃপর নিজের ছবির সাথে পতাকা লাগিয়ে পোষ্ট করলাম।




