কৃত্তিম রোজনামচা

ওহ! আজকে বিজয় দিবস? আজই জানলাম। মনেই তো ছিল না! ফ্রেশ হয় লাল-সবুজের শাড়ি, পাঞ্জাবী পড়ে শহীদ মিনার এবং স্মৃতিসৌধে ইচ্ছামতো ফুল দিলাম। কত্ত বাহারি ফুল! হলুদ, লাল….! কিন্তু গতমাসের বন্ধুর বিয়েতে ঠিকই ছেঁড়া (স্টাইলিশ) জিন্স প্যান্ট, শার্ট পড়ে গিয়েছিলাম। চুলগুলিও কালার করে সেইমার্কা একটা কাটিং দিয়েছিলাম। শাড়ির সাথে একধরণের লুক দিয়েছিলাম সেবার। লুকটা ভারতের দিকে খুব চলে! বিয়েতে ট্রেডিশনাল ফুড হিসেবে আলুর ভর্তা ছিল। তাই ক্ষেত বলে রাগ দেখিয়ে চলে আসলাম। ফলস্বরূপ হিন্দি গানের সাথে তাল মিলিয়ে নাচতে পারলাম না। 

যাইহোক…আজ বিজয় দিবসের ট্রিট হিসেবে দামী হোটেলে তেহারি চলবে! হোটেলে যাওয়ার আগে মেলায় ঘুরে আসা যাক। আরে ধুর! এই মহিলাটার কোনো কাণ্ডজ্ঞান নেই। এভাবে পথে বসে থাকে কেউ? আরেকটু হলেই তো পড়ে যেতাম। ইশ্! কাপড়ের কি অবস্থা! আজকেও থালা নিয়ে বসে যেতে হবে! আরে করছে কি! সে টাকার অভাবে খেতে পারছে না তো আমি করবো! ভাংতি নেই বলে তাড়িয়ে দিলাম। বিরক্তিকর পরিস্থিতিতে শুধু আমাকেই পড়তে হয়। 

ও আচ্ছা.. এবার তো পতাকা কেনা হয়নি। বাড়ির পেছনের দিকে অবশ্য একটা ফেলে দেওয়া ছোট পতাকা ছিল। সেটাকে ধুয়ে কাজে লাগাতে পারতাম৷ কি আর করার! সামনের মেলার স্টল থেকে কিনে নেওয়া যাবে। 

আরে এখানে তো সব দেশী পণ্য! দেশী পণ্য এখন চলে নাকি? এখনো ক্ষেতই রয়ে গেলো! ধ্যাত…এখানে আর থাকাই যাবে না। বড় কোনো শপিং সেন্টার থেকে আজকের শপিংটা সেরে ফেলতে হবে। 

তাকে আজ আসতে বলেছিলাম। বিজয় দিবস উপলক্ষে সবাই ঘুরতে বেরিয়েছে। এত মানুষের ভেতরে আমরা একসাথে ঘুরলে হয়তো কেউই ধরতে পারবে না। এসব দেশপ্রেম টেশপ্রেম দিয়ে কি হবে? আগে মানবপ্রেম ঠিক রাখা জরুরি! কল দিলাম। বললো আসতে আরো ৩০ মিনিট লাগবে। এই সুযোগে কোথাও বসে ফেইসবুকিং করা যাক! ফেইসবুকের ভিডিওগুলি আজকাল মর্ডানটাইপের হয় বলে ভালোই লাগে। 

আরে লোকটা কি বলছে এসব? মুক্তিযোদ্ধারা শহীদ হয়েছে, মা-বোনেরা সম্ভ্রম দিয়েছে… তাতে কি? মুক্তিযুদ্ধ ভাতা কম পাচ্ছে নাকি? ওরকম যুদ্ধ এখন হলে আমিও তাদের মতো যুদ্ধে যেতে পারবো! শুধু তারা যে খাদ্যের অভাবে চিড়ামুড়ি খেয়ে যুদ্ধে গিয়েছিল আর অমানবিক অত্যাচার সহ্য করেছিল…কেবল সেটাই পারবো না। কিন্তু আমি ঠিকই ঠুস ঠুস করে গুলি করতে পারবো। 

হঠাৎ সামনে চোখ পড়লো। লোকটা কি বোকা! মাথা ঠিক নেই বোধহয়। চিপসের প্যাকেটটা ডাস্টবিনে ফেলতে হচ্ছে নাকি! দেশপ্রেম উতলে উঠেছে একদম। যত্তসব ঢং! 

এই সময়ে আবার কে কল করলো? 

ও…বুঝেছি। সামনে বন্ধুর চাকরি হবে হবে করছে। সেই সংবাদটাই হয়তো জানাচ্ছে। পাক্কা ২০ লাখ টাকা ঘুষ দিয়েছে এবার৷ চাকরি না হয়ে যাবে কই? আহা! সরকারি অফিসারদের কত্ত লাভ! টাকার উপর টাকা। ইশ্! আমি যদি এমপি কিংবা উচ্চপদস্থ কোনো সরকারি কর্মচারী হতে পারতাম! 

বন্ধুর সাথে বাংলিশে চ্যাটিং করতে করতে চোখে পড়লো সামনের ছেলেগুলি মেয়েটাকে উত্ত্যক্ত করছে। আরে ধুর! আমি কেন ভাবছি? দেশটা আমার একার নাকি! এসব বাদ দিয়ে ফেইসবুকে বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়ে পোস্ট করা যাক! দেরি হয়ে যাচ্ছে। রাত হয়ে গেলে তো সব শেষ! অতঃপর নিজের ছবির সাথে পতাকা লাগিয়ে পোষ্ট করলাম।

লোকসান এড়ানোর কাজে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর অবদান

আজ ১ অক্টোবর। বিশ্ব প্রবীণ দিবস। আমার মতে খুব কমসংখ্যক মানুষ এই তথ্যটি সম্পর্কে জানে। অবশ্য অনেকের না জানবারই কথা। জীবনের অলিতে-গলিতে ঘটে যাওয়া নানান ঘটনাবলির নিচে অনায়াশেই চাপা পড়ে যায় এসব ঠুনকো দিবস (আমাদের মতে)। আমাদের সমাজের কিছু বিবেকবর্জিত মানুষের ধারণা একটি মানুষ প্রবীণ বয়সে পতিত হওয়া মানেই তার পৃথিবীতে নতুন কিছু দেওয়ার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলা। সমাজের প্রতিটি স্তরে স্তরে প্রবীণ মানুষেরা আজ অবহেলিত হচ্ছে। এমনকি আদরের সন্তানটিও বৃদ্ধ পিতা মাতাকে ফেলে দিচ্ছে বৃদ্ধাশ্রম এর মত একাকিত্বের গভীর আস্থাকূঁড়ে।

 আমরা সকলেই জানি বয়স বাড়ার সাথে সাথে একটি মানুষের শারীরিক এবং মানসিক ক্ষমতা ক্রমশ লোপ পায়। শরীরে বাসা বেঁধে রাখা বিভিন্ন রোগের জীবাণুর বিরুদ্ধে তাদের একাই লড়তে হয়। স্মরণশক্তি লোপ পাওয়ার পাশাপাশি কাছের মানুষগুলির অবহেলা একজন প্রবীণ মানুষকে মানসিকভাবে রীতিমতো অত্যাচারের যন্ত্রণা উপহার দেয়।বুড়ো দাদিটা কিংবা বুড়ো নানাটা যখন তার নাতি – নাতনির সাথে একটু খোশগল্পে মেতে উঠতে চায় তখন অনেকের চোখে – মুখে বিরক্তির আভা ফুটে ওঠে। 

একটি শিশুর মনে সময়ের ব্যবধানে যেমন হাজার হাজার প্রশ্নের উদয় হয় এবং এসব প্রশ্নের উত্তর না পেলে তাদের যেমন মানসিকভাবে চাপ সৃষ্টি হয়, ঠিক তেমনি একজন প্রবীণ মানুষের মনেও হাজারো অভিজ্ঞতার কাহিনী জমা থাকে। যা বলতে না পারলে কিংবা কাউকে শুনাতে না পারলে সে একাকিত্বের যন্ত্রণায় পুড়তে থাকে। এই পুড়তে থাকার যন্ত্রণা যে কত কঠিন তা কেবল ভুক্তভোগীরাই জানান!প্রবীণ বয়সের মানসিক চাহিদাগুলি পূরণ করা সত্যিই জরুরি। আমার মতে এই কাজটি সকল কাজের চাহিদা পূরণের চাইতেও অত্যধিক জরুরী। 

আমাদের জীবনে চলার পথে বিভিন্ন অভিজ্ঞতার প্রয়োজন পড়ে। এখন প্রশ্ন হলো… যদি ঘটনাটি জীবনে নাই বা ঘটে তবে অভিজ্ঞতা অর্জন করবো কিভাবে?

এক্ষেত্রে আমরা যদি প্রবীণ মানুষগুলির অভিজ্ঞতার ঝুলি হাঁতড়াই তাহলে অনেক সমস্যার সমাধান খুঁজে পাবো। প্রত্যক্ষভাবে না হলেও আমরা পরোক্ষভাবে পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে পূর্ণ ধারণা লাভ করতে সক্ষম হবো। 

আমাদের সমাজের একটি বিরাট অংশজুড়ে রয়েছে এই প্রবীণ জনগোষ্ঠী। আমরা কিন্তু চাইলেই তাদের বোঝা মনে না করে শক্তি হিসেবে ব্যবহার করতে পারি। বর্তমানের আধুনিক যুগে অধিকাংশ শিশু কিশোররাই তথ্য প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকে পড়ছে। ক্ষেত্রবিশেষে লাভ যেমন হচ্ছে লোকসানও তেমন হচ্ছে। আমাদের মাথায় রাখতে হবে আমরা চাইলে বুদ্ধি খাটিয়ে এই লোকসানের ফাঁদে পড়া হতে আমাদের সন্তানদের রক্ষা করতে পারি। দিনের একটা সময় যেন তারা মন খুলে কথা বলতে পারে তার ব্যবস্থা করতে পারি। এতে এক ঢিলে দুই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হব। এর ফলে প্রবীণরা যেমন তাদের একাকীত্ব দূর করার হাতিয়ার খুঁজে পাবে। শিশুরাও তেমন লোকসান এড়িয়ে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে লাভের হিসাব পাকাপোক্ত করার সুযোগ পাবে।

লেখা – সুলতানা আফিয়া তাসনিম 

পজেটিভ চিন্তা-ভাবনার অনুপস্থিতি এবং আকাশসম ক্ষতি

পজেটিভ চিন্তা-ভাবনা করার মূল হাতিয়ার হলো সবসময় সবকিছু পজেটিভলি গ্রহণ করার ক্ষমতা। একজন মানুষ কিংবা একটি পরিস্থিতি কখনোই পুরোপুরিভাবে পজেটিভ হয় না। মানুষ যেমন ভুল – শুদ্ধের সমাহার… পরিস্থিতিও ঠিক তেমন। 

সারাবছর পড়াশুনা করা একটা ছেলে হুট করে রেজাল্ট করে ফেলেছে। তার মানে এই নয় পরিবারের সকল সদস্য মিলে তাকে ইচ্ছেমতো ডিপ্রেশনের নদীতে চুবাবে! পাড়া-প্রতিবেশীর মানসিক অত্যাচারের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের দেওয়া মানসিক অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে পা পিছলে পড়ে যাওয়া ছেলেটাও সারাজীবনের জন্য পঙ্গুত্ব বরণ করে নেই অনেকসময়। অথচ তা আমরা জানলেও মানতে রাজি না। কারণ ওই একটাই! সেটা হলো পজেটিভ চিন্তা-ভাবনা করার ক্ষমতা না থাকা! আমাদের মাথায় থাকে না…  পরিস্থিতি সবসময় অনুকূলে থাকে না। রাখা যায় না!    

একজন ছেলে এবং একজন মেয়ে রিকশায় চড়ে শহর ঘুরে বেড়ানো মানে এই নই যে তাদের প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। ভাই-বোন, চাচা-ভাতিজিরাও কিন্তু একসাথে, একই রিকশায় চড়ে শহর চষে বেড়াতে পারে! এতে বাধা নেই। এক্ষেত্রে আমার আপনার পজেটিভ চিন্তা-ভাবনা করার ক্ষমতা থাকতে হবে। যা ঘটে নি তা রটানো বাহাদুরির কাজ নয়।

ছেঁড়া গেঞ্জি, এলোমেলো চুল, ময়লা শরীরে একটি লোক আপনার হোটেলে খাবার খেতে এসেছে…তার মানে এই নই যে খাওয়াদাওয়া শেষ হয়ে গেলে সে বিল না দিয়ে উধাও হয়ে যাবে! এমন নেগেটিভ ভাবনা মনে পোষণ করে আপনি যদি লোকটিকে পঁচা খাবার ধরিয়ে দিয়ে তাচ্ছিল্যের সুর তোলেন তাহলে আপনি এখনো মানুষ হতে পারেন নি। পৃথিবীতে যেমন কিছু মানুষের মন অসম্ভব ছোট…তেমনই পৃথিবীতে কিছু মানুষের মন অসম্ভব বড়। কিছুকিছু মানুষ নিজে ঠকে গেলেও অন্য একজনকে ঠকানোর চিন্তাভাবনা মাথায় আনারও সাহস পায় না।

বাসের পাশের সিটে বসা হিজড়া হিসেবে স্বীকৃত মানুষটি যে সবসময় আপনাকে অপদস্ত করার চিন্তায় লিপ্ত থাকে তা নয়! আমি-আপনি হিজড়া দেখলেই যেসব বাজে মন্তব্য ছুঁড়ে মারি তা তাদের হজম করতে কিন্তু প্রচুর মানসিকশক্তির প্রয়োজন পড়ে। অনেকেই তো সহ্য করতে না পেরে পৃথিবীকে বিরাট অবহেলার কারখানা ভেবে “শান্তি” নামক শব্দটাকে ভুলেই গেছে! তাদের প্রতি সমালোচনার তীর ছুঁড়তে ছুঁড়তে আমরা অন্ধত্ব বরণ করে নিই। যার ফলস্বরূপ তাদের চোখের নোনতা জল আমাদের কাছে ধরা দেয় না।

পাশের বাড়িতে থাকা বোবা লোকটাকে দেখলেই আমাদের প্রচুর হাসি পায়। হাত নাড়ানাড়ি করে কি যেনো বলে! কিছুই বুঝতে না পেরে হো হো করে হেসে উঠি আমরা। অথচ বুঝি না এমন লজ্জাজনক পরিস্থিতি এড়ানোর জন্য মনে মনে সে কতগুলি কৌশল কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে! একবারও ভাবি না একই পরিস্থিতি আমাদের জীবনে কোনোভাবে চলে আসলে আমরা কি করে তা মানিয়ে চলার চেষ্টা করবো? কিভাবে নিজেকে বুঝাবো যে এমন পরিস্থিতি মানুষের জীবন অস্বাভাবিক নয়!   

পড়াশোনার প্রতি অনাগ্রহ এবং সফল ক্যারিয়ার

পড়াশুনা না করলেই কি আপনার ভবিষ্যৎ অন্ধকার?

আপনার মেধাশক্তি কম বলে কি আপনি হেরে যাবেন?

আপনার পড়তে ভালো লাগে না বলেই কি আপনার দ্বারা কিছু করা সম্ভব নয়?

অবশ্যই সম্ভব। তবে যদি আপনি চান। আমাদের দেশের চাকরি ব্যবস্থার নীতি এমন হয়েছে যে সার্টিফিকেট ছাড়া চাকরি পাওয়া একেবারেই অসম্ভব।আর পড়াশোনা ছাড়া সার্টিফিকেট পাওয়ার আশা অকল্পনীয়।  কিন্তু হাস্যকর বিষয় হলো চাকুরিজীবনে পড়াশুনা নামক জঞ্জালের ছিঁটেফোটাও কাজে লাগে না। তবে হ্যাঁ…! আপনি যদি চাকরি করতে চান কিংবা আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা যদি চাকুরিভিত্তিক হয়, তাহলে অবশ্যই আপনাকে ভালোভাবে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হবে। কারণ বর্তমানে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা ধীরে ধীরে পরিবর্তিত হয়ে যাচ্ছে। সরকারপ্রধানরা ভাবছেন যারা অত্যধিক মেধাবী কেবল তাদেরই পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া উচিত এবং যাদের মেধাশক্তি কম কিংবা পড়াশোনায় ভালো না তাদের কারিগরি শিক্ষার আওতায় নিয়ে আসা উচিত।

যেহেতু আমাদের দেশে চাকুরি নামক সোনার হরিণ পাওয়া বেশ দুষ্কর এবং জনশক্তি বেশি, সেহেতু আমাদের দেশের সরকারপ্রধানরা ভাবছেন কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষার্থীদের কাজে লাগাতে পারলে ভবিষ্যতে যেমন দেশের উন্নতি ঘটবে, তেমনি কাজের অভাব পড়বেনা। যার ফলে দিনদিন শিক্ষাব্যবস্থা খুব কঠিন হয়ে পড়ছে। যাদের পড়াশোনা করতে ইচ্ছে করে না তাদের জন্য এ পরিস্থিতি কিন্তু ভয়াবহ বিপদ ডেকে আনতে পারে। প্রশ্ন হচ্ছে এমন পরিস্থিতিতে কি করা যায়? ভবিষ্যতের অন্ধকার গোছাতে কি করা উচিত? 

তার আগে আপনার জেনে নেওয়া উচিত একটি মানুষের জীবনে চাকরিই সবকিছু নয় কিংবা চাকরির মাধ্যমেই কেবল নতুন দিনের সফল কাব্য লেখা যায় না!উপরন্তু যারা স্বাধীনভাবে কাজ করতে চান কিংবা যারা স্বাধীনতা পছন্দ করেন তাদের জন্য চাকরি করাটা সত্যিই অনেক বিরক্তিক।  আপনি চাইলে এই বিষয়টিকে গাধার খাঁটুনি বলতে পারেন। মানুষের জীবনে যেমন হাজারটা সমস্যা রয়েছে তেমনই সেই হাজারটা সমস্যার লক্ষাধিক সমাধান রয়েছে। আপনাকে কেবল কষ্ট করে বুদ্ধি খাঁটিয়ে সমাধানটা বের করতে হবে। 

প্রতিটি মানুষের জীবনেই সুপ্ত কিছু প্রতিভা রয়েছে। যেমন অনেকেই ছবি আঁকা, গান গাওয়া, লেখালেখি ইত্যাদির উপর বেশ দক্ষ। যদিও আপাতদৃষ্টিতে এগুলোকে নিতান্ত অপ্রয়োজনীয় দক্ষতা মনে করা হয়। কিন্তু আপনি যদি খুব ভালোভাবে খেয়াল করেন তবে দেখবেন এই দক্ষতাগুলো দিয়েই কিন্তু আপনি জীবিকা নির্বাহ করতে পারেন কিংবা ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠিত হতে পারেন। প্রয়োজন অধ্যাবসায়ের, প্রয়োজন ধৈর্যের, প্রয়োজন আত্মস্পৃহার, প্রয়োজন আত্মশক্তির। 

এছাড়াও আমাদের দেশে ফ্রিল্যান্সিং-আউটসোর্সিং, f-commerce ইত্যাদি কাজের মত অসংখ্য সুযোগ-সুবিধা রয়েছে যার মাধ্যমে আপনার ভবিষ্যৎ খুব সুন্দরভাবে সাজাতে পারেন।

 আপনি যদি ছবি আঁকতে পছন্দ করেন তাহলে আপনি এই ছবি আঁকাটাকেই পেশা হিসেবে গ্রহণ করতে পারেন। আপনি ছবি এঁকে দেওয়ার বিনিময়ে অর্থ উপার্জন করতে পারেন কিংবা নিজেকে গ্রাফিক্স ডিজাইনিং এর সঙ্গে যুক্ত করে কাজ করতে পারেন। অবশ্য যারা ছবি আঁকতে পারে না তারাও এই গ্রাফিক্স ডিজাইনিং শিখে খুব ভালো পরিমাণ অর্থ আয় করতে পারেন। 

এই তথ্য প্রযুক্তির যুগে আমরা যতই আধুনিক হচ্ছি ততই নতুন নতুন শব্দের সাথে পরিচিত হচ্ছি। ঠিক এমন একটি শব্দ হলো ডিজিটাল মার্কেটিং।তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে প্রচুর পরিমাণে অনলাইন বিজনেস এর দেখা মেলে।পাশাপাশি অফলাইন বিজনেস তো আছেই! 

আগে আমরা শুনেছি অফলাইনে বিজনেসের কথা। প্রচুর পরিমাণে প্রফিট নিয়ে মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে আপনাকে একটি বিজনেস দাঁড় করানোর মতো কঠিন কাজ সম্পন্ন করতে হয়। কিন্তু তথ্যপ্রযুক্তির হাতে যে ম্যাজিক রয়েছে সেটিকে কাজে লাগিয়ে তথ্যপ্রযুক্তি অনলাইন বিজনেসের মতো নতুন একটি কারিশমা দেখাতে সক্ষম হচ্ছে।  খুব কম মূলধন নিয়ে এবং খুব কম খরচে অনলাইনে বিজনেস শুরু করতে পারেন আপনিও।তবে এখানে আপনাকে প্রচুর ধৈর্যের পরীক্ষা দিতে হবে। যদি আপনার ধৈর্যশক্তি প্রবল থাকে এবং আপনি খুব ভালো ব্র্যান্ডিং করতে পারেন তাহলে আপনার জন্যই এই ডিজিটাল মার্কেটিং। মানুষের সাথে ভালোভাবে যোগাযোগ করতে পারা, মানুষের চাহিদা বুঝতে পারা, ইত্যাদি গুণ থাকলে আপনি ডিজিটাল মার্কেটিং করে প্রচুর পরিমাণ অর্থ উপার্জন করতে পারেন।বিভিন্ন সাইটে এবং বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়াতে আপনার পণ্যের ছবি তুলে প্রকাশ করতে পারেন এবং তার মাধ্যমে আপনি ক্রেতা খুঁজে পেতে পারেন।বিকাশ, রকেট ইত্যাদি একাউন্টের মাধ্যমে আপনি আপনার প্রোডাক্টের মূল্য বুঝে নিয়ে কুরিয়ারের মাধ্যমে আপনার প্রোডাক্ট ডেলিভারি দিতে পারেন।

 যাদের লেখালেখির প্রতি বিশেষ আগ্রহ রয়েছে কিংবা লেখালেখি করতে ভালো লাগে তাদের নিরাশ হবার কিছুই নেই। বর্তমানে অনলাইন জবের বিশাল একটি অংশ এই লেখালেখির সুযোগ জুড়ে রয়েছে।বিভিন্ন ভাষায় উপযুক্ত টপিকের উপর কন্টেন্ট লিখে আপনিও বেশ ভালো আয় করতে পারেন।এই ধরণের কাজ আজকাল বিভিন্ন ওয়েবসাইটে পাওয়া যায়।

পড়াশুনা না করেই আয় করার মতো এত সুযোগ থাকতে আপনাকে দমে যেতে হবে কেন? আপনাকে আত্মহত্যার মতো ঘৃণ্য পথ বেঁছে নিতে হবে কেন? অনেকেই হয়তো প্রশ্ন তুলবেন, পড়াশুনা না করলে পাড়ার মানুষ কি বলবে? বন্ধুবান্ধব কি ভাববে? এমন ভাবনা মনে আসার আগে আপনি নিজেই ভেবে নিবেন আপনার জীবনে চলার পথে এসব পাড়া-মহল্লার মানুষের কোনো ভুমিকা আছে কিনা! যদি থাকে তাহলে তা চিন্তার বিষয়। আর যদি না থাকে তাহলে দ্বিতীয়বার না ভেবে কাজে নেমে পড়ুন। 

তবে হ্যাঁ। যারা পড়াশুনায় ভালো তাদের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল। পাশাপাশি যারা এক্ষেত্রে পিছিয়ে আছে তাদেরও চিন্তার কোনো কারণ নেই। আসুন সবাই মিলে এগিয়ে যাই।বেকারমুক্ত দেশ গড়ি।     

“আমরা অনেকেই মনে করি ধর্মের প্রতি বিশ্বাস মানেই একপ্রকারের অন্ধবিশ্বাস। অথচ একটুখানি খেয়াল করলেই…”

“আমরা অনেকেই মনে করি ধর্মের প্রতি বিশ্বাস মানেই একপ্রকারের অন্ধবিশ্বাস। অথচ একটুখানি খেয়াল করলেই…” by Sultana Afia https://link.medium.com/N849ft0Jh9

আমার পরিচিতি:

আমি সুলতানা আফিয়া তাসনিম(উম্মি)। জন্ম ২০০০ সালে চট্টগ্রামের হাটহাজারী থানার ধলই ইউনিয়নের একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে। বর্তমানে আমি কাটিরহাট মহিলা কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেনিতে অধ্যয়ন করছি।

বাবাদের অপ্রকাশিত ভালোবাসা

বাবারা কঠিন মনের মানুষ, বাবারা সন্তানকে ভালোবাসে না, বাবারা শুধু সন্তানের চাহিদা পূরণ করেই মনে করে তার দায়িত্ব শেষ….. এই কথাগুলো বেশ কঠিন কথা। কঠিন হলেও বেশকিছু সন্তানের মনে তা বারবার উদিত হয়। ভাবে বাবারা বোধহয় মানুষের মন কি জিনিস তা বুঝতেই পারে না। অথচ পৃথিবীতে একজন পুরুষ হিসেবে বাবারা সন্তানকে যে পরিমাণে ভালোবাসে অন্য কেউ তার নখ পরিমাণ ভালোবাসাও দিতে পারে না। 

হ্যাঁ! একথা ঠিক যে আপাতদৃষ্টিতে বাবাদের কঠিন মানুষ মনে হয়। মনে হয় তারা মন পড়তে পারার কাজে একেবারে অদক্ষ। কিন্তু সন্তানের চাহিদা মেটাতে না পারলে বাবাদের চোখ বেয়ে নোনতা জলের যে ধারা প্রবাহিত হয় তা অনেক সন্তানেরই চোখে পড়ে না। সন্তান সামান্য অসুস্থতায় ভুগলে মায়ের মতো শিয়রে বসে সারারাত পার না করলেও বাবারা ঠিকই বারান্দায় পায়চারি করতে করতেই রাত সাবাড় করে দেয়। চোখেমুখে থাকে চিন্তার ছাপ। আবার এই বাবারাই সন্তানকে একটু অশুভ ছায়া ছুঁলেই নিজেরা মরিয়া হয়ে পড়ে। ছেঁড়া শার্ট, পুরোনো জুতো জোড়া, কাঁচ ভাঙা চশমা পরিহিত বাবাটিও সন্তানের জন্য রাজার মতো খরচ করতে দ্বিধাবোধ করে না। করবেই বা কি করে? সন্তানই যে তার একটুকরো পৃথিবী। 

নিজে হয়তো স্কুলের গন্ডি পেরিয়ে কখনো কলেজের মাঠে পা দেয় নি। কিন্তু সন্তানকে মস্তবড় ব্যারিষ্টার বানানোর জন্য সে কিডনি বিক্রি করতেও প্রস্তুত। বিনিময়ে চাই সন্তানের একটু ভালো থাকার জন্য প্রয়োজনীয় রসদের জোগান। 

পৃথিবীতে খারাপ মানুষের অভাব নেই। ভালোভাবে খেয়াল করলেই দেখা যায় কতশত মানুষরূপী অমানুষের আস্তানা এই পৃথিবী। কিন্তু একটু সতর্কদৃষ্টিতে চোখ বুলালেই বুঝতে পারবো একজন সন্তানের কাছে বাবারা কতটা নিরপরাধী! বাবারা যোখানে সন্তানের প্রতি কোনো অনাচারই সহ্য করতে পারে না সেখানে সন্তানের দৃষ্টিতে নিজের অপরাধী বনে যাওয়ার ব্যাপারটা সত্যিই হাস্যকর।

প্রতিটি মানুষের হৃদয়েই ভালোবাসা জমায়িত অবস্থায় থাকে। কেউ হয়তো প্রকাশ করে কিংবা বলে কয়ে তা সার্বজনীন করে ফেলে আবার কেউ হয়তো প্রকাশ না করাতেই সবচেয়ে বেশি স্বস্তি পায়। ভালোবাসা প্রকাশ করা হতে নিজেকে বিরত রাখা সেই মানুষেরা চায় তার ভালোবাসা কখনোই প্রকাশ না পাক। নিজের ভেতর শহরেই তা সীমাবদ্ধ থাকুক। এমন সব উদ্ভট চাওয়া বাবারাও আশা করে থাকে। ফলস্বরূপ সন্তানেরা মনে করে তাদের বাবার হৃদয়ে তাদের প্রতি কোনো অনুভুতিই নেই। তারা কখনোই সন্তানের সামনে কাঠিন্যের পরিমাণ বিন্দুমাত্র কমাতে চায় না। যদিও ব্যাক্তিবিশেষে তা ভিন্ন।    

সংসারধর্ম বড় কঠিনধর্ম। এই ধর্ম পালন করতে বেশ খাটতে হয়। একটা সংসারের বোঝা বয়ে বেড়ানোর কষ্টটা কেবল পুরুষেরাই বুঝে। পরিবারের একজন কর্তা হিসেবে বাবাদের যেমন দায়িত্ব পালনে যথেষ্ট সতর্কতা অবলম্বন করতে হয় তেমনই একজন বাবা হিসেবে সন্তানের দিকটাও তাকে খেয়াল রাখতে হয়। এই দু’দিকটা একসাথে সামলানো সত্যিই বড্ড কঠিন কাজ। যার কারণে বাবারা হয়তো মায়া – মমতা বিলাতে গিয়ে একটু হেরফের করে। আর সন্তানেরা অমনি ভেবে বসে তাদের প্রতি বাবাদের কোনো টানই নেই।   

আজকাল সন্তানেরা বাবাদের প্রতি কিছুটা উদাসীন। যার প্রমাণ দেশে বৃদ্ধাশ্রমের আধিপত্য বিস্তার। ছোটবেলায় বাবার যে হাত ধরে সন্তানেরা নতুন স্বপ্নে নিজেকে বিলিয়ে দেয় সন্তানেরা সেই হাত ধরেই বাবাদের বৃদ্ধাশ্রমের কোণায় ফেলে চলে আসে। সারাটি জীবন একজন বাবা সন্তানকে বিলিয়ে দিতে প্রস্তুত থাকে, বিলিয়ে দেয়। প্রয়োজনে সামর্থ্যের বাধাকে ডিঙিয়ে বিকল্প উপায় অবলম্বন করতে দ্বিধাবোধ করে না। বিনিময়ে তার কিছুই চাওয়ার থাকে না। কিন্তু প্রতিটি মানুষের মনেই তো সুপ্ত কিছু চাওয়া-পাওয়ার সমষ্টি থাকে। বাবারাও হয়তো চায় শেষ বয়সে এসে সন্তানের অর্জিত সুখ – সাচ্ছন্দ্যগুলিকে একটু কাছ থেকে উপভোগ করতে। বাবারা অতীতের কষ্টগুলির সার্থক ফল নিজের চোখে উপভোগ করে তৃপ্তি মেটাতে চায়। যা অনেক সন্তানই বুঝতে পারে না কিংবা বুঝেও না বোঝার ভান করে। তবে এ’কথা ঠিক যে, প্রকৃতি কাউকে ছাড় দেয় না। ঘুরে ফিরে প্রতিশোধের পর্বটা আসেই।            

সুখ দামী নাকি দুঃখ দামী?

একটা মানুষের জীবন কখনোই শুধুমাত্র সুখের সাগরে কিংবা দুঃখের সাগরে প্রবাহিত হয় না। সুখ – দুঃখ পাশাপাশি থাকে বলেই তাদেরকে বোন হিসেবে মুখে মুখে জুড়ে দেওয়া হয়েছে।  বোনেরা যেমন এক আত্মার মানবী হয় ঠিক তেমনই সুখ – দুঃখ এক সাগরের পদ্ম হয়।

আপাতদৃষ্টিতে দুঃখকে মানুষ এড়িয়ে চলতে চাইলেও দুঃখই কিন্তু মানুষের জীবনকে শৃঙ্খল এবং সৌন্দর্যময় করে তুলে।তবে সেই সৌন্দর্যের স্বাদ পেতে হলে অবশ্যই দুঃখকে জয় করতে জানতে হবে। দুঃখকে এড়িয়ে না চলে দুঃখ কিভাবে একটা মানুষকে এড়িয়ে চলে তার টেকনিক জানতে হবে।

আমার মতে হুটহাট দুঃখ পাওয়া জীবন নামক স্বাস্থ্যের জন্য আবশ্যক। এতে দুঃখ পেলে ভেঙে পড়ার প্রবণতা কম থাকে। সিলিং ফ্যানে স্বপ্ন ঝুলানোর কথা মাথায় আসা তো দূরে থাক বরং এমন বোকামি করার কথা শুনলেই হাসি আসে। পরবর্ততে আসা ঝড় মোকাবিলা করার রসদ জমা করা যায়। যদিও একাজে প্রবল আত্মবিশ্বাস থাকা চাই। থাকা চাই মনোবলের পাহাড়। কিন্তু আশার কথা হচ্ছে এই আত্মবিশ্বাস এবং মনোবল বানানোর মেশিনও তৈরি করা যায়। চোখ বুজে কয়েক দফা দুঃখের নদীতে থাকলেই এই মেশিন তৈরি হয়ে যায়। অবশ্য শর্ত থাকে এই যে সর্বদা মনে রাখতে হবে দুঃখের পরে সুখ আসবেই।  

সুখ বিষয়টা যদি সবসময় স্থায়ী থাকতো তাহলে তার মূল্য কমতে কমতে শূণ্যের ঘরে এসে পৌঁছাতো। কারণ মানুষের কাছে সর্বদা পাওয়া জিনিসের মূল্য নিতান্তই কম থাকে। সুলভে যা পাওয়া যায় মানুষ তা নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে পছন্দ করে না। একটু দামী বস্তু, একটু উচ্চ আশা মানুষ কায়মনোবাক্যে চায়। এটাই মানুষের বৈশিষ্ট্য। আর এই বৈশিষ্ট্যের জের ধরেই, সুখকে একটু দামী করতেই দুঃখের জন্ম। তাইতো হাজার দুঃখের পর একটুখানি সুখের দেখা পেলেই মনে হয় হীরের টুকরার খোঁজ পাওয়া গেছে। তাই আমার ধারণা অনুযায়ী সুখের চাইতে দুঃখের দামটাই বেশি। দুঃখ একাই যেমন মানুষের আত্মশক্তি বৃদ্ধি করে তেমনি একাই সে সুখকে দামী করে তুলে।  

সুখ – দুঃখ যতই দামী কিংবা কমদামী হোক না কেন দুটোই জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার কাজে বেশ পটু। কেউ হয়তো কষ্ট পেয়ে পাথরের মতো নিজেকে শক্ত দলা বানিয়ে ফেলেছে। কেউ হয়তো সুখসাগরে ডুব দিয়ে নিজেকে নতুনরূপে গড়ে তুলেছে। তবে সুখসাগরে ডুব দিয়ে নিজেকে পরিবর্তন করে ফেলার চাইতে দুঃখ সয়ে নিজেকে বানানো পাথরের স্থায়িত্ব বেশি। শক্ত হয়ে যাওয়ার ফলে এতে মচকানোর কোনো সুযোগই থাকে না।     

একমাত্র জীবনের যোগফলই বলতে পারে মানুষের জীবনে কোনটা দামী? সুখ নাকি দুঃখ? বেশিরভাগই হয়তো সুখকে প্রাধান্য দিবে। অনেকেই আবার জীবনে সুখের মুখ দেখে নি বলে হা-হুতাশ করবে। সৃষ্টিকর্তার উপর দোষারোপ করবে। যা নিতান্তই হাস্যকর। তবে জীবনের যোগফলে দুঃখের সাগরকেই বেশি প্রাধান্য দেওয়া উচিত। কারণ জীবনে সুখের চাইতে দুঃখের অবদানটাই বেশি।          

অভ্যাস পরিবর্তনের উপায়

খারাপ অভ্যাস পরিবর্তনের উপায় নিয়ে কিছু কথাঃ-

” মানুষ অভ্যাসের দাস ” এই প্রবাদটি প্রতিটি মানুষের কাছেই বেশ কার্যকর এবং উপযুক্ত প্রবাদ। আমরা মানুষেরা চাইলেও যেমন খারাপ অভ্যাসগুলিকে পরিবর্তিত করে ভালো অভ্যাসে পরিণত করতে পারি না তেমনি ভালো অভ্যাসটিকেও হুটহাট খারাপ অভ্যাসে পরিণত করা যায় না। তবে ছোট ছোট খারাপ অভ্যাসগুলির কিন্তু পরিবর্তন করা যায় এবং এর মাধ্যমেই বড় আকারের খারাপ অভ্যাসগুলিকেও জীবন থেকে দূর করা যায়। 

অনেকক্ষেত্রে আমরা ছোট ছোট কাজগুলি সারতে মন থেকে বেশ উৎসাহ পাই। ঠিক তেমনই আমরা যদি খারাপ অভ্যাসগুলিকে ভালো অভ্যাসের তালিকায় যোগ চাই তাহলে অবশ্যই সবার আগে ছোট ছোট বদঅভ্যাসগুলির দিকে নজর দিতে হবে। মনে রাখতে হবে এই পরিবর্তনের জোয়ারে ভাসার আগে অনাগত দিনকে কাজে লাগানোর কথা ভুলে গিয়ে বর্তমান সময়কেই গুরুত্ব দিতে হবে। মাঝেমাঝে দেখা যায় কালকের দিনটিতে করার জন্য রেখে দেওয়া কাজটি পরশুও আর করা হয়ে উঠে না। অলসতা মানুষকে সহজেই গ্রাস করে ফেলে। এই গ্রাস করে ফেলার ক্ষমতাটির নিচেই চাপা পড়ে যায় আগামী দিন করার জন্য ফেলে রাখা কাজটির প্রতি তীব্র আগ্রহ। তাই অভ্যাস পরিবর্তনের চিন্তা যদি মাথায় থাকে তবে সবার আগে নিশ্চিত হতে হবে নিজেকে শুধরানোর জন্য আগামী দিন বলে কোনো দিনই নেই৷ যা করার আজকেই করতে হবে। নিজেকে নতুনরূপে সাজানোর জন্য আজকের দিনটিই সেরা দিন। অবশ্য একদিনে কেউ পরিপূর্ণ পরিবর্তিত হতে পারে না। পাশাপাশি একসাথে কেউ সকল খারাপ অভ্যাস বর্জন করার মতো কঠিন কাজটিও করতে পারে না। তার অবশ্য একটা কারণ আছে। ওই যে বললাম মানুষের দাসীবাঁদীর কথা! মানুষ অভ্যাসের দাস বলেই নিজেকে ঢেলে সাজানোর জন্য একদিন কখনোই যথেষ্ট নয়। 

আপনি যদি চান একদিনেই মিথ্যা বলা ছেড়ে দিয়ে নিজেকে পুরোপুরি মহাসত্যবাদী বানিয়ে ফেলবেন, তাহলে মস্তবড় ভুল করবেন। অনেকক্ষেত্রে হিতে বিপরীতও হতে পারে। দেখা যাবে একদিনে নিজেকে পুরোপুরি সত্যবাদী বানাতে গিয়ে আপনি ক্লান্ত হয়ে পড়বেন। ভাববেন এর চেয়ে কঠিন কাজ বোধহয় আর পৃথিবীতে নেই। অতঃপর ধীরে ধীরে আগ্রহ হারিয়ে নিস্তেজ হয়ে পড়বেন। তবে যদি আপনি সঠিক নীতিমালা গ্রহণ করেন, নিয়ম অনুযায়ী সামনে আগাতে থাকেন তাহলে অবশ্যই নিজেকে ঢেলে সাজানোর মতো কঠিন কাজটা অতিসহজেই সারতে পারবেন। 

আপনি চাইলে প্রথমদিকে প্রতিসপ্তাহের একটি নির্দিষ্ট দিনের নির্দিষ্ট সময়ে আপনার সেই খারাপ অভ্যাসটি থেকে নিজেকে বিরত রাখতে পারেন। এরপর নিয়ম মেনে খারাপ অভ্যাসটি এড়িয়ে চলার পাশাপাশি উক্ত স্থানে একটি ভালো অভ্যাসকে বসাতে পারেন। এক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে খারাপ অভ্যাসটির জায়গায় আপনি যদি ভালো কোনো অভ্যাস বসাতে না পারেন তাহলে পূনরায় সেই খারাপ অভ্যাসে প্রত্যাবর্তনের আশংকা থাকে। তাই এব্যাপারে সতর্ক থাকা উচিত।    

আমরা মনে করি আমরা যতই ভালো মানুষের গুণাবলি নিয়ে আলোচনা করি না কেন নিজেকে সেই গুণাবলির সাথে খাপ খাওয়াতে পারাটা বোধহয় খুব কঠিন কাজ। অথচ আমরা একথা ভাবি না যে প্রতিটি কঠিন সমস্যার জন্য ডজনখানেক সমাধানের ব্যবস্থা রয়েছে। অতএব শুরুতেই নিজেকে আত্মবিশ্বাসী বানিয়ে নেওয়া উচিত। অলসতাকে ডিঙিয়ে লক্ষ্য অর্জনের জন্য মনোবল বাড়ানো উচিত। প্রথমে ছোট ছোট বদঅভ্যাস এবং ধীরে ধীরে বড় বড় বদঅভ্যাসগুলিও ছেড়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করা উচিত।     

অনেকসময় দেখা যায় অনেকে ভালো অভ্যাসে অভ্যস্ত হয়ে গেলেও কয়েকদিন পরে আবারও সেই খারাপ অভ্যাসে ফিরে যায়। এর মূল কারণ হলো চর্চার অভাব। ছুরি, দা, বটি এসব প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র যেমন ব্যবহার করলে ধারালো থাকে ঠিক তেমনই ভালো অভ্যাসের চর্চা থাকলে জীবনের সাথে তা পাকাপোক্তভাবে গেঁথে যায়।  

খারাপ অভ্যাসগুলিকে ভালো অভ্যাসে পরিণত করতে পারাটা সত্যিই কঠিন কিছু নয়৷ সঠিক উপায় বের করে প্রয়োজন হলে রুটিন বানিয়ে যদি এগিয়ে যাওয়া যায় তাহলে তার স্থায়িত্ব হবে দীর্ঘমেয়াদি।